Blog

  • ঢাকায় ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার

    ঢাকায় ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার

    ঢাকাসহ সারাদেশে আজ আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৯টা ৩৪ মিনিটের দিকে পাঁচ দশমিক নয় মাত্রার ভূমিকম্পটি হয়।এর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের সিতওয়ে অঞ্চলের কাছাকাছি।আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকেও আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিলো, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল চার দশমিক এক।বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরা।

  • ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ড

    ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ড

    সেঞ্চুরি করেছেন দুই দলের অধিনায়কই। তবে বিফলে গেল অস্ট্রেলিয়ার ওলিভার পিকের শতক। শুরুতে হোঁচট খেলেও অধিনায়কের ব্যাটে স্বপ্ন দেখছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে অপরপ্রান্ত থেকে পেলেন না কোনো সমর্থন। শেষ পর্যন্ত বরাবর ১০০ করে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হলেন পিক। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড।

    জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ অস্ট্রেলিয়াকে ২৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে থমাস রিউয়ের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৭ রান তোলে ইংলিশরা। রাত তাড়ায় ৪৭.৩ ওভারে  ২৫০ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

    দুর্দান্ত এক শতক হাঁকিয়ে ইংল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন থমাস রিউ। ১৪ চার ও এক ছক্কায় ১০৭ বল খেলে ১১০ রান করেন উইকেটকিপার ব্যাটার। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড শুরুতে ৬০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। তারপর দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেন রিউ ও ক্যালেব ফ্যালকনার। চতুর্থ উইকেটে তাদের ১৩৫ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইংলিশদের ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ করেন ফ্যালকনার। শেষ দিকে ফারহান আহমেদ অপরাজিত ছিলেন ২৮ রান করে।

    অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে দু’টি করে উইকেট নেন হেইডেন শিলার এবং নাডেন কুরে।

    রান তাড়ায় শুরুটা ভালো ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ২৪.২ ওভার শেষে অজিদের স্কোর ছিল ১০৯/২। ওপেনার নিতেশ স্যামুয়েল ৮৩ বলে করেন ৪৭ রান। তবে বাঁহাতি স্পিনার রালফি অ্যালবার্টের বলে টমাস রিউর স্টাম্পিংয়ে স্যামুয়েল আউট হতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

    তারপর ম্যানি লামসডেন দ্রুতই অ্যালেক্স লি-ইয়াং ও জেইডেন ড্রেপারকে ফেরান। অস্ট্রেলিয়া মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে মিডল অর্ডারের তিনটি উইকেট হারায়। অলি পিক পাল্টা লড়াই শুরু করেন। ৫৫ বলে অর্ধশতক করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে প্রাণ ফেরান তিনি। ২০৭ রানে অষ্টম উইকেট পতন ঘটলে ইংল্যান্ডের জয় সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি পিক। লামসডেনের এক ওভারে ২২ রান নেন এবং সেবাস্টিয়ান মর্গানের বলে চার্লস লাখমুন্ড আউট হওয়ার পর ৮৫ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

    শেষ ১৬ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২৮ রান, হাতে ছিল মাত্র একটি উইকেট। কিন্তু জেমস মিন্টোর বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে পয়েন্টে বেন মেয়েসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন পিক। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মাতে ইংল্যান্ড শিবির।

    ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক থমাস রিউ বলেন,

    ‘অনুভূতিটা দারুণ। আমি ছেলেদের বলেছিলাম, এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে। অলি (পিক) যেভাবে ব্যাট করেছে, সেটা অসাধারণ। শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে পারাটা বিশেষ কিছু। শেষদিকে আমি নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু বোলারদের ওপর ভরসা রেখেছিলাম—চাপের মধ্যে ইয়র্কার ঠিকঠাক করার জন্যই ওরা অনুশীলন করেছিল।’

    ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছে একবার—১৯৯৮ সালে। ২০২২ সালে তারা রানার্সআপ হয়েছিল। আগামীকাল অন্য সেমি ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। শুক্রবার হবে যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল।

  • দুবাইয়ের রান্নাঘর থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে উসমান তারিক

    দুবাইয়ের রান্নাঘর থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে উসমান তারিক

    দুবাইয়ের এক হোটেলের রান্নাঘরে পেঁয়াজ কাটছিলেন উসমান তারিক। পেঁয়াজের তেজস্ক্রিয়ায় চোখে পানি। লম্বা সময় বসে কাটতে হয়, পিঠেও জমেছে ব্যথা—এটাই ছিল তাঁর প্রতিদিনের রুটিন। শ্রমিকদের ছোট আবাসনে রাত পার, আর ভবিষ্যত ছিল অনিশ্চয়তা। সেই সময় হয়তো কল্পনা করতে পারননি একদিন এই কিচেন থেকে পৌঁছে যাবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে।

    ক্যামেরন গ্রিন যখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ব্যঙ্গ করে তাঁর বোলিং অ্যাকশন দেখাল, উসমান হয়তো ভাবল— ‘আবার কি শুরু!’ এক মাস আগে ইংল্যান্ডের ব্যাটার টম ব্যানটনও একই অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু মাঠের এই বিতর্ক তাঁকে বিচলিত করতে পারে না। কারণ জীবন তাঁকে ইতিমধ্যেই শিখিয়েছে— সে গ্ল্যাডিয়েটরের মতো, কঠিন সময় ও কঠিন পরিস্থিতিতে সবসময় লড়াই করে।

    পেশোয়ারে বেড়ে ওঠা উসমান ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন সংগ্রামের মুখ। বাবার মৃত্যু এবং আর্থিক সংকট তাঁকে ছোটবেলা থেকেই বড় ঝুঁকি নিতে শিখিয়েছে। কাজের খোঁজে তিনি আফগানিস্তানের কাবুল পর্যন্ত যান। দ্য ন্যাশনালকে উসমানের জীবন সংগ্রামের কথা বলছিলেন ছোটবেলার বন্ধু হাসিব উর রহমান, ‘তুষার পড়ছিল, মেঝেতে বরফ জমেছিল, আর সে চাকরি খুঁজছিল, বিভিন্ন কোম্পানি ঘুরছিল।’

    উসমান সহায়তা চেয়েছিল, কিন্তু পরিস্থিতি তত সহজ ছিল না। হাসিব বলেন, ‘আমি আমার বসকে বলেছিলাম ওর জন্য কোনো জায়গা বের করতে, কিন্তু তিনি রাজি হননি। বললাম, আমি যে বেতন পাচ্ছি তার একটি অংশ ওর জন্য দিতে পারেন, অন্তত ওর মন শান্ত হবে। কিন্তু সেটাও কাজ হয়নি।’

    পাকিস্তানে ফিরে আসেন উসমান, কিন্তু পরে আবার দুবাই পাড়ি দেয়। সোনাপুরের শ্রমিক আবাসনে হোটেলের রান্নাঘরে পেঁয়াজ কাটার দিনগুলো চলতে থাকে। হাসিব বলেন, ‘পেঁয়াজ কাটা সহজ নয়; চোখে পানি চলে আসে, পিঠেও ব্যথা শুরু হয়।’

    পরের চাকরি আসে গাড়ির যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থার ক্রয় বিভাগে। জীবিকা চলছিল, কিন্তু ক্রিকেটের আগ্রহ এখনও নিভে যায়নি। দুবাইয়ের দেইরার রাস্তার ছোট খেলার মাঠে হায়াত রিজেন্সির পাশে উসমান আবার ব্যাট-বল হাতে খেলতে শুরু করেন। তখনই ফাস্ট বোলিং ছেড়ে স্পিনে আসা। লম্বা গড়নের এই স্পিনার, যাঁকে কেউ আগে চিনতেন না, ধীরে ধীরে নিজের আবিস্কৃত বিরল অ্যাকশন ব্যাটারদের জন্য জুজু হয়ে ওঠে।

    পিএসএলের ট্যালেন্ট হান্টে অংশ নেয়ার সুযোগ আসে উসমানের। প্রথম ছয় বলেই নির্বাচকদের নজর কাড়েন। কিন্তু চাকরির দায়ে তিনি যেতে পারেন না। তখন মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০১৭ সালে, উদ্যম নিয়ে দুবাইয়ে চাকরি ছেড়ে পাকিস্তানে ফিরে আসেন, পুরোপুরি ক্রিকেটের জন্য।

    হাসিব মনে করিয়ে দেন, ‘যখন সে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে যাচ্ছিল, আমি বলেছিলাম, আমি জানি না তুমি কভাবে বাঁচবে, কারণ তুমি যে চাকরি পেয়েছ সেটা সেরা সুযোগ। কিন্তু সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করল—না, আমি আর পিছনে তাকাব না। চেষ্টা করব এবং আরও কঠোর পরিশ্রম করব। আমি অবশ্যই সফল হব।’

    দেশে ফিরে দিন-রাত অনুশীলন করেন উসমান। কঠোর পরিশ্রমই বদলে দিয়েছে ভাগ্য। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সাফল্যের পর পাকিস্তান দলে সুযোগ পান তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচেই হ্যাটট্রিক। গত বছরে নভেম্বরে ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন। তারপর তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছেন।

    আইএলটি-টোয়েন্টির ফাইনালে ডেজার্ট ভাইপার্সের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বন্ধু হাসিব, যিনি এখন দুবাইয়ের একটি ফাইন্যান্স কোম্পানিতে হেড অফ কমপ্লায়েন্স, মাঠে বসে সব দেখেছেন। তিনি বললেন, ‘সে সবসময় পরিবারের জন্য কিছু করতে চেয়েছে। ক্রিকেট ছিল তার শেষ সুযোগ, শেষ চেষ্টা। আর সে সেটা করেছে।’

    দুবাইয়ের রান্নাঘরের ছোট কিচেন থেকে শুরু হওয়া স্বপ্ন আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছেছে। জীবন তাঁকে শিখিয়েছে লড়াই করতে, আর উসমান সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প এবং আবেগ—এই তিনটি তাঁকে আজ পাকিস্তানের বড় ভরসার জায়গায় নিয়ে এসেছে।

  • এবার জামায়াত সেক্রেটারির এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক

    এবার জামায়াত সেক্রেটারির এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক

    বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের পর এবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তার ছেলে আহমাদ আতাউল্লাহ সালমান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।ফেসবুক পোস্টে সালমান বলেন, ‘আব্বুর এক্স/টুইটার আইডিটি হ্যাক হয়েছে। একটি চক্র নির্বাচনকে সামনে রেখে এই চক্রান্ত করছে। কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। এর জবাব ১২ তারিখের ব্যালটের মাধ্যমে এই দেশের জনগণ দিবে ইনশাআল্লাহ।’এর আগে জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স একাউন্ট হ্যাক করে বাজে মন্তব্য করা হয়। যে মন্তব্যের কারণে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

  • জামায়াত আমিরের পোস্ট কাণ্ডে রাষ্ট্রপতি দপ্তরের কর্মকর্তা আটক

    জামায়াত আমিরের পোস্ট কাণ্ডে রাষ্ট্রপতি দপ্তরের কর্মকর্তা আটক

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি দপ্তরের এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।বিস্তারিত আসছে….

  • বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় মধ্যরাতে আটক, ছয়জনের কারাদণ্ড

    বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় মধ্যরাতে আটক, ছয়জনের কারাদণ্ড

    ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে ছয়জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের বগাজান নামক এলাকায় তাদের আটক করে সাজা দেওয়া হয়।

    সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, আবদুল হামিদ (৭৫), মো. তানভীর (৪২), গোলাম রাব্বী (২৩), মেহেদী হাসান (৪০), মো. শামসুদ্দিন (৭৪) ও গোলাম শহীদ (৫০)। তাঁদের কাছ থেকে ৬টি মুঠোফোন, ২৫ হাজার টাকা, হিসাবের খাতা এবং একটি একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।

    সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকার বগাজান এলাকায় টাকা বিতরণের খবর আসে। ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের পক্ষে এসব টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর টহল টিম সাতজনকে আটক করেন। সেখানে ৩০ জনের একটি দল থাকলেও অন্যরা পালিয়ে যান।

    জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম কাউসার জামান গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। আটক ব্যক্তিরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। আটক ৭ জনের মধ্যে ৬ জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মুচলেকা নিয়ে তাঁর মায়ের উপস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের সময় আটক করা ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি হিসাবের খাতাও জব্দ করা হয়েছে। এতে কোন মহল্লায় কবে, কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে বা করা হবে, তার হিসাবের তথ্য আছে।

  • বাংলাদেশে মাথা উঁচু করে রাজনীতি করার অধিকার নেই জামায়াত-শিবিরের: আবিদ

    বাংলাদেশে মাথা উঁচু করে রাজনীতি করার অধিকার নেই জামায়াত-শিবিরের: আবিদ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের মাথা উঁচু করে রাজনীতি করার কোনো অধিকার বাংলাদেশে নাই। বাংলাদেশের মাটি আপনাদের স্বীকার করে না। আপনারা এ দেশে বসে বাংলাদেশের সংস্কৃতির ওপর আঙুল তোলেন, ইতিহাস বিকৃত করতে চান; এর ধাক্কা আপনারা নিতে পারবেন না। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মুক্তমঞ্চে ‍‌‘তারুণ্যের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই সব কথা বলেন।

    জামায়াতের আমিরকে উদ্দেশ করে আবিদুল ইসলাম খান বলেন, একজন সাদা শয়তান, যারা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজাকারের ভূমিকায় ছিল, তারা আবারও বাংলাদেশের ইতিহাসকে ৫৪ বছর পর বিকৃত করতে চায়। সেই সাদা শয়তানকে বলে দিতে চাই, এই বাংলাদেশের মাটিতে যদি রাজনীতি করতে হয়, মহান মুক্তিযোদ্ধা ধারণ করেই করতে হবে। একদিকে যেমন ৭১, একদিকে যেমন ২৪ এগুলো বাংলাদেশে সম্পদ, বাংলাদেশের অস্তিত্ব। এগুলোকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

    তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। এটা নিয়ে যে আপনারা যে অপসংস্কৃতি শুরু করেছেন কিন্তু এর যে ধাক্কা আপনারা সেটা নিতে পারবেন না। আমরা তো আপনাদের কিছু বলিনি, ধৈর্য ধারণ করেছি। তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাটি থেকে শিবিরের ছেলেরা সর্বপ্রথম সূচনা করেছে জুলাইয়ের পরে। নোংরা রাজনীতি প্রচলন করতে চান?

    জুলাই বিপ্লবের দেড় বছর অতিক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে এই ছাত্রদল নেতা বলেন, আমরা যে অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, তা আবার ফিরে এসেছে। আমরা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। কিন্তু জুলাইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে অনেকে আজ পথভ্রষ্ট হয়েছে। তারা নিয়োগ বাণিজ্য করছে, কেউ কেউ উপদেষ্টা বনে গিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনীতি ধ্বংস করছে।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সেই নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নির্দিষ্ট সংগঠন পা বাড়িয়েছে। তারা আমাদের উসকানি দিচ্ছে যেন আমরাও তাদের মতো আচরণ করি। আমরা আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সুস্থ রাজনীতি ফিরিয়ে আনব ইনশাল্লাহ।

  • এবার কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    এবার কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    এবার যদি কোথাও কেন্দ্র দখল হয় কেউ ছাড় পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেরানেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, কেন্দ্র দখল যেন না হয়, সেজন্য এবার সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে, পুলিশকে ২৫ হাজার ৭০০ বডিওর্ন ক্যামেরা দিচ্ছি, ড্রোন ব্যবহার করছি। এরপরও যদি কেউ কোনো রকম এদিক-সেদিক করতে যায়, তাহলে কেউ ছাড় পাবে না। সে ভাই হোক বা বোন হোক, তার ছবি এখানে থেকে যাবে, ৩ বা ৪ দিন পর হোক বা ৬ মাসের জন্য জামিন নিয়ে আসুক, জামিনের পরে হলেও সে ধরা খাবে।

    আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সাহাব উদ্দিন মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক প্রস্তুতি সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভা করেছি আমরা। এতে সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবাই ছিল, এতে আমরা বিভিন্ন সমস্যাগুলো আলোচনা করেছি। তাদের প্রস্তুতি বিষয়ে আলোচনা করেছি। এতে দেখা গেছে- তাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো এবং প্রশংসনীয়। তারা জাতিকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে পারবে, এটা আমাদের বিশ্বাস।

    সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ঝিনাইগাতির ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে এর জন্য যত ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার, আমরা নিচ্ছি। এর জন্য যারা দায়ী তাদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে এ ধরনের ঘটনার পর জড়িতরা এলাকায় থাকে না, তারা দূরে চলে যায়। এজন্য অনেক ক্ষেত্রে একটু সময় লাগে, তবে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

    নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আমরা সাংবাদিকদের পোলিং সেন্টারে ঢোকার জন্য অনুমতি দিয়ে দিয়েছি। এতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই। এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের কোথাও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে ছোটখাট কিছু সমস্যা তো থাকবেই, কিন্তু বড় ধরনের কোনো ঘটনা নেই।

    নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার বিলম্ব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফলাফল প্রস্তুত হয়ে গেলে ঘোষণা করে দেবে। এখন তো ফলাফল ঘোষণা সুবিধা, যেহেতু প্রত্যেকটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্ট থাকবে। কোন প্রার্থী কত ভোট পেল, সাথে সাথেই এজেন্ট তা মোবাইলে জানিয়ে দেবে। সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার আগেই মোবাইলের মাধ্যমে ফলাফল মানুষ পেয়ে যায়, তা আপনারাও জানেন।

    এ সময় ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মী (এনডিসি), ময়মনসিংহ পুলিশ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়া, র‌্যাব-১৪ এর অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হক, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসরারসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সে ভালো নেতা হতে পারে না: সারজিস আলম

    নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সে ভালো নেতা হতে পারে না: সারজিস আলম

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী এবং এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এক নির্বাচনী জনসভায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের কঠোর দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলেছেন।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড়ে আয়োজিত ওই সভায় তিনি ঘোষণা করেন, একজন ভালো নেতা যদি তার নিজস্ব নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে তিনি কখনো প্রকৃত নেতা হতে পারেন না। তিনি উপস্থিত সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা গত কয়েক দিনের মামলাবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের সাহসের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। সারজিস আলম আরও বলেন, ভোটারদের উচিত প্রার্থীদের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড যাচাই করা এবং যারা অপকর্মে লিপ্ত, তাদের ভোট না দেওয়া। এমনকি নিজের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও যদি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদেরও ভোট না দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

    বক্তব্যের একপর্যায়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে সারজিস আলম বলেন, ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মন্দির ও পূজার মণ্ডপ পাহারা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করেছে। অথচ একটি বড় দলের নেতাকর্মীরা প্রতিমা বিসর্জনের পুকুরসহ সাধারণ মানুষের জায়গা-জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের উৎসবে মেতেছে। তিনি এই দখলবাজদের ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।

    এছাড়া পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের নতুন বিল্ডিং চালুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বিএনপির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত ও এনসিপিসহ ছোট ছোট দলগুলো স্বাস্থ্যসেবা তহবিলে আর্থিক সহায়তা দিলেও বিএনপির মতো বড় দল কোনো টাকা দিতে পারেনি। যারা নির্বাচনের সময় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে, তারা কেন সেবার কাজে ৫ লাখ টাকা দিতে পারে না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন পরিকল্পনার প্রতি ইঙ্গিত করে সারজিস আলম বলেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা শুনে সাধারণ মানুষ আশান্বিত হলেও মাঠপর্যায়ে তার নেতাকর্মীরা নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।

    তিনি শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে খুনের ঘটনা এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সারা দেশে ২০০ জন নেতাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তারেক রহমানকে তার কর্মীদের থামানোর আহ্বান জানান। সারজিস আলম সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে আর কতজনকে হত্যার পরিকল্পনা রয়েছে তা জাতির কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার। পরিশেষে তিনি নিজের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে, তারা শোষক বা শাসক হতে নয়, বরং সাধারণ মানুষের সেবক হতে রাজনীতিতে এসেছেন।

  • বিয়ের দায়িত্বের আশ্বাসে কাজ, বিমানের এমডির বাসায় যেভাবে চলত নির্যাতন

    বিয়ের দায়িত্বের আশ্বাসে কাজ, বিমানের এমডির বাসায় যেভাবে চলত নির্যাতন

    ভবিষ্যতে ভরণপোষণ ও বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১১ বছরের এক শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে নিয়েছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও ড. সাফিকুর রহমান। তবে সেই প্রতিশ্রুতির আড়ালে শিশুটির ওপর চলত ভয়াবহ ও অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ড. সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

    ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে এই আদেশ দেন। এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদেরও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

    মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা একজন হোটেল কর্মচারী। আর্থিক অভাবের কারণে ২০২৫ সালের জুন মাসে তিনি তার একমাত্র কন্যাকে সাফিকুর রহমানের বাসায় কাজে দেন। নিয়োগের সময় সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথী আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তারা শিশুটির অভিভাবকের দায়িত্ব নেবেন এবং ভবিষ্যতে তার বিয়ের খরচ বহন করবেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের পর থেকে শিশুটির সঙ্গে তার পরিবারকে আর দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

    থানা সূত্রে আরও জানা যায়, প্রথমদিকে গোলাম মোস্তফা নিয়মিত মেয়ের সঙ্গে দেখা করলেও ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না। সর্বশেষ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বিথী ফোন করে জানায় যে, শিশুটি অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় শিশুটিকে বাবার কাছে হস্তান্তর করা হলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও দগদগে পোড়া চিহ্ন দেখা যায়। সে স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না। আঘাতের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি।

    পরবর্তীতে শিশুটিকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুরে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাকালে শিশুটি জানায়, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের পর থেকে বিথী, শফিকুর রহমান এবং আরও দুইজন কাজের মহিলা বিভিন্ন সময়ে তাকে মারধর করে এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়।

    এ ঘটনায় ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি ও সিইও শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    সহিংসতার শিকার শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী এনডিসির পক্ষ থেকে আহত শিশুটির চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।